যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ থেকে অন্তত ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়ায় তাদের আটক করা হয়। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
শনিবার লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বাইরে কয়েক শ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। যুক্তরাজ্যের আইনে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা গত বছরের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় কার্যকর হয়।
বুধবার যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে সংগঠনটির নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির আগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।
শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ থেকে মোট ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে দিনের শুরুতে ৪৮ জনকে আটকের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তাদের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে।
তবে পুলিশের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন লেবার পার্টির এমপি জন ম্যাকডোনেল। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। তাঁর মতে, এমন প্রতিবাদকে গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করাও ঠিক নয়। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকার ভুল করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভ।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বর দমনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংগঠনটি আল-কায়েদা ও আইএসআইএলসহ (আইএসআইএস) নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের বাইরেও বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে সেখানে কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। লন্ডন ও এডিনবরার বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ জানিয়েছে, শনিবারের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আটক ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে।
সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নীরব অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং গণহত্যার বিরোধিতা ও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চার হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা ‘ভয়াবহ বাস্তবতা’। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করা এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের বাধার মুখে পড়া ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষাই নিষেধাজ্ঞার পেছনে কাজ করেছে; সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা এর উদ্দেশ্য নয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের যোগাযোগ ও প্রচার বিভাগের প্রধান ফেলিক্স জ্যাকেনসও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বয়স্ক মানুষ, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সী বিক্ষোভকারীদের হাতে প্ল্যাকার্ড থাকার কারণে পুলিশি ভ্যানে তুলে নেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
জ্যাকেনসের মতে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আরও সুরক্ষিত করতে আইন সংস্কার করা প্রয়োজন।
(ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক)।



