মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এককভাবে নিজের নীতি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দিতে প্রেসিডেনশিয়াল ভেটো ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, তখন তিনি হয়ে উঠবেন ‘মিস্টার ভেটো’।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন। ফলে তার ব্যক্তিগতভাবে জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন নেই। তবে এই নির্বাচন তার দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। কারণ, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে বাধা বাড়বে।
নিউইয়র্ক পোস্টের পড কাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাদের আনা বিল আটকে দিতে তিনি ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন।

ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসকে কীভাবে মোকাবেলা করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার ধারণা, তখন আমি ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠব। আমি তাদের সবকিছু ধ্বংস করতে দেব না।’
ট্রাম্পের ভাষ্য, ডেমোক্র্যাটরা একের পর এক বিল পাঠালে তিনি সেগুলোতে ভেটো দেবেন। এভাবে এক-দুই মাস ধরে তাদের বিল আটকে থাকলে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবেন বলে মনে করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একের পর এক বিল পাঠাতে থাকবে। আপনি সেগুলোতে ভেটো দেবেন। মাসখানেক বা দুই মাস ধরে তাদের সব বিল আটকে থাকার পর যখন তারা দেখবে যে শুধু শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে, তখন তারা নিজেরাই সমঝোতার জন্য এগিয়ে আসবে। তখন আপনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন।’
অতীতেও রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতার নজির রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এবারও কোনো একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হতে পারে।

তবে ট্রাম্প আশা করছেন, রিপাবলিকানরাই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবেন। তাতে ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের মোকাবেলা করার প্রয়োজন হবে না বলে মনে করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা জিততে না-ও পারি—যদিও আমার মনে হয় আমরা দারুণ করব—তাহলে আমি সবকিছুতেই ভেটো দেব। শুধু ভেটো আর ভেটো দিতেই থাকব।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট সম্মতি না দিলে তিনি তাতে ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটোই চূড়ান্ত নয়। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য কোনো বিলের পক্ষে ভোট দিলে সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি আইনে পরিণত করা সম্ভব।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত তিনি দুইবার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। এর আগে প্রথম মেয়াদে ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সুযোগ থাকলে আমি আবারও নির্বাচনে দাঁড়াতে পছন্দ করতাম। কিন্তু সংবিধানের ভাষা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর।’

এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর প্রতি ইঙ্গিত করেন ট্রাম্প। এই সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না।

৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হবে।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের আরো তিনটি আসনে জয় পেতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও আইন প্রণয়নের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধীদের মোকাবিলা করার যে পরিকল্পনার কথা ট্রাম্প জানিয়েছেন, তা তার দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র : এনডিটিভি

(ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক)।