যে কারণে তড়িঘড়ি করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর মধ্যে হঠাৎ করেই ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দ্রুত সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ। সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালী। ইরান এই প্রণালী নিরাপদে খুলে দিতে রাজি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান স্থগিতের পথে হাঁটে। কারণ, এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল পরিবহন হয়; এটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল।

এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ হয়েছে। ফলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে একটি কৌশলগত বিরতিতে যাওয়াকে তারা বেশি কার্যকর মনে করেছে।

অর্থনৈতিক চাপও ছিল বড় একটি কারণ। যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে ওঠে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাপ তৈরি হচ্ছিল। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

কূটনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। কাতার-এর মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগোয়। পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর পক্ষ থেকেও যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানানো হয়, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরান একটি ১০ দফার শান্তি প্রস্তাব সামনে আনে, যাকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রস্তাবও আলোচনাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে।

তেলের বাজার স্থিতিশীল করার প্রয়োজন, এবং দ্রুত কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ এই তিনের সমন্বয়েই তড়িঘড়ি করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্থায়ী সমাধান নয়; বরং বড় সংঘাতের মাঝে একটি কৌশলগত বিরতি।
(ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক)।