রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক কূটনীতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে উত্তর দেন শামা ওবায়েদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও বহুমাত্রিক করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক কূটনীতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।’
তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপ, আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি দেশি পণ্যের নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। সম্ভাবনাময় দেশসমূহের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে আমাদের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও জোরদার হবে। এ প্রসঙ্গে, আমরা পুনরায় মহান সংসদ ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই দর্শনকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার এসকল চুক্তি সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।’’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ তৈরি পোশাক খাতের উপর নির্ভরশীল থাকায় বৈশ্বিক বাজারের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের উপর আমাদের রপ্তানি আয় নির্ভরশীল। এই এককেন্দ্রিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানিযোগ্য পণ্য সমৃদ্ধ বহুমাত্রিক রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার উপর। বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বহুমুখী রপ্তানিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জনা বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ নিয়মিত প্রদর্শনী আয়োজন করছে এবং স্বাগতিক দেশের আয়োজিত মেলায় নিয়মিত ভাবে অংশ নিচ্ছে। দূতাবাসগুলো একাজে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে সর্বতো সহযোগিতা করে থাকে। আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের বৈশ্বিক প্রচার এবং EIPA সুবিধা কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে সিঙ্গেল উইনডোর প্রাধামে আমদানি-রপ্তানি পরিচালন করা শুরু হয়েছে।’ (অনলাইন ডেস্ক)



