বৃটেনের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই বার্নহ্যাম?

বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন স্যার কিয়ের স্টারমার। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে (ফোর্টনাইট) মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সব হিসাব-নিকাশ বলছে, তিনিই খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একজন জ্যেষ্ঠ ব্রিটিশ লেবার রাজনীতিবিদ। তিনি ২০১৭ সাল থেকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন বার্নহ্যাম।
শৈশব ও কৈশোরে তিনি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠেন এবং মাত্র ১৫ বছর বয়সেই লেবার পার্টিতে যোগ দেন। পরে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ২০০১ সালে প্রথমবার বৃটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন বার্নহ্যাম। তিনি লেবার পার্টির টনি ব্লেয়ার এবং গর্ডন ব্রাউন সরকারের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ট্রেজারি এবং স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সিনিয়র পদ।
২০০৮ সালে তিনি সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০০৯ সালে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদে উন্নীত করা হয়। এ ছাড়া বার্নহ্যাম ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) দায়িত্বেও ছিলেন। তিনি দুইবার লেবার পার্টির নেতা হওয়ার চেষ্টা চালালে তা ব্যর্থ হয়। ২০১৭ সালে তিনি পার্লামেন্ট থেকে সরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন। মেয়র হিসেবে তিনি পরিবহন, আবাসন ও কর্মসংস্থানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কাজ করেছেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় উত্তর ইংল্যান্ডের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা নিয়ে তার বারবার কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ওই সময় থেকেই তাকে অনেকেই ‘কিং অব নর্থ’ নামে ডাকতে শুরু করে, যা জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোনস থেকে অনুপ্রাণিত একটি উপাধি।
এরপর ২০২৬ সালে বার্নহ্যাম আবার বৃটিশ পার্লামেন্টে ফিরেন। এবার তিনি মেকারফিল্ড আসনের সংসদ সদস্যহিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল রিফর্ম ইউকে। দলটি লেবারের থেকে ৯ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে লেবার পার্টি প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কিন্তু বার্নহ্যামের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের পর সেই ভোটের হার বেড়ে প্রায় ৫৫ শতাংশে পৌঁছায়।
এদিকে সর্বশেষ স্টারমারের পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বার্নহ্যাম নিশ্চিত করেছেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্নহ্যাম বলেছেন, স্টারমার আমাদের দেশের জন্য বিশাল অবদান রেখেছেন এবং এই রকম একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার নেতৃত্ব ও নিষ্ঠার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।
তিনি আরও বলেন, স্টারমারের এই সিদ্ধান্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যায়ের (ট্রানজিশন) সূচনা করেছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে এই প্রক্রিয়াটি যেন সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল উপায়ে সম্পন্ন হয়। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করব। (ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক)।