গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে: শিশির মনির

গণভোট অধ্যাদেশের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গণভোট বাতিল হলে আইনগত হুমকির মুখে পড়বে নির্বাচিত সংসদ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ আসন (দিরাই-শাল্লা) থেকে এমপি নির্বাচন করেছিলেন। সোমবার দুপুরে হাইকোর্টের এনক্সে ভবনের সামনে জামায়াতের আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকারের উপযোগিতার নীতি থেকে বের হওয়ার জন্যই তো এত সংগ্রাম হয়েছিলো। সেখানে ছিল উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ আইন মন্ত্রণালয়। এখন বলছেন সরকার উপযুক্ত মনে করিলে। সরকার উপযুক্ত মনে করিলে বদলি হবে। উপযুক্ত মনে করিলে মঞ্জুরি হবে। উপযুক্ত মনে করিলে ছুটি হবে। উপযুক্ত মনে করিলে শৃঙ্খলা হবে। উপযুক্ত মনে করিলে পদোন্নতি হবে। তাহলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ হবে কি করে? আগের মতো কানাকানি করে? আগের মতো টেবিলের নিচে দিয়ে কে কাকে পছন্দ করি আর কে কাকে অপছন্দ করি এইভাবে? এটা পছন্দ করেন? এইটা পছন্দ করেন? কে কার জুনিয়ার আর কে কার সিনিয়র? কার বাড়ি কোথায়? কার আইডেন্টিটি কি? তার রাজনৈতিক পরিচয় কি? এইভাবে নিয়োগ দেবেন? এই নিয়োগ এইভাবে হাইকোর্ট যাকে বৈধ বলেছেন, হাইকোর্ট যাকে সাংবিধানিক বলেছেন, আপনারা গায়ের জোরে এটাকে এখন বলছেন অসাংবিধানিক।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন কমিশন সংক্রান্ত যে সংশোধনী অর্ডিন্যান্স আছে এটাও তারা বাদ চান। আপনারা জানেন দুর্নীতি দমন কমিশনের অর্ডিন্যান্স সংশোধনী অর্ডিন্যান্সে কি আছে? সেখানে বলা ছিল দুদুকের চেয়ার মহাপরিচালক এবং পরিচালকগণ একটা সার্চ কমিটির মাধ্যমে তাদেরকে নিয়োগ করা হবে। সরকার চাইলেই হায়ার এবং ফায়ার করতে পারবেন না। তারা বলছেন এই সার্চ কমিটির বিধানটাকে তারা বাতিল চান। তাহলে দুদুকের মহাপরিচালক কিভাবে অ্যাপয়েন্টেড হবে? দুদুকের পরিচালকগণ কিভাবে অ্যাপয়েন্টেড হবেন? সরকার যারে চাইবেন তাকেই বসাবেন। যাকেই বাদ দিতে চাইবেন তাকেই বাদ দিয়া আসবেন। মহাপরিচালককে তারা এক ধরনের প্রেসার ক্রিয়েট করে তাকে পদত্যাগ করিয়েছেন। এখন যদি কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে, নতুন যে একজন অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিবেন, সার্চ কমিটির অর্ডিন্যান্স যদি বাতিল হয় তাহলে দুদুকের মহাপরিচালক কিভাবে অ্যাপয়েন্টেড হবেন? তার তো কোনো প্রসেস নাই। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, তারা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ অর্ডিন্যান্সকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল চেয়েছেন। এই মর্মে একটা রিট পিটিশন হয়েছিলো হাইকোর্ট ডিভিশনে। এই বিচারক নিয়োগ অর্ডিন্যান্স চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন নাম্বার ৩৯৩৬/২০২৫। আজকে যে কারণে তারা অসাংবিধানিক বলছেন, এই কারণেই একটি রিট পিটিশন হয়েছিলো অনারেবল হাইকোর্ট ডিভিশন, ওই রিট পিটিশনটা সামারিলি রিজেক্ট করে দিয়েছেন উইথ অবজারভেশন। এখন এসে বলছেন এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমটা অসাংবিধানিক, এই জন্য আইনটাকে আমরা ল্যাপস করে দিতে চাই। তাহলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ কি কারো পছন্দ-অপছন্দের মাধ্যমে হবে কিনা এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

এছাড়া শিশির মনির আরও বলেন, সরকার গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, দুদক সংস্কার অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বিশের অধিক অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন চায় না। অথচ এই অধ্যাদেশগুলো দেশের মানুষকে সংস্কারের আশা জাগিয়েছিল। তিনি এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান সরকারকে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে ৩০ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যমত হয়েছিল। সেসব বিষয়েও বিএনপি মানতে টালবাহানা করছে করছে বলে মন্তব্য করেন শিশির মনির। (ডেস্ক রিপোর্ট)।