২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসবে আগামী জুনে কিন্তু ইতোমধ্যেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে। এরমাঝেই বিশ্বকাপ দেখতে ইচ্ছুক টিকিট সংগ্রহকারী ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, বিশ্বকাপের ম্যাচের টিকিট থাকা ভ্রমণকারীদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো অগ্রাধিকার দেবে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প জানান, ফিফার ‘প্রায়োরিটাইজড অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্কেজ্যুলিং সিস্টেম’ (পাস) দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায় থাকা টিকিটধারীদের দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়াননি ইনফান্তিনো জানান, বিশ্বকাপ দেখতে প্রায় ১ কোটি দর্শনার্থী যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারেন। তিনি বলেন,‘এই ফিফা পাসের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করব যারা টিকিট কিনেছেন, তারা যেন ভিসা পাওয়ার ধাপ থেকেই সর্বোত্তম সুবিধা পান।’ খবর- বিবিসিতবে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বকাপের টিকিট থাকা মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন,‘আপনার টিকিট ভিসা নয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তাও দেয় না। আমরা আগের মতোই স্বাভাবিক নিরাপত্তা যাচাই করব। একমাত্র পার্থক্য হলো—আমরা তাদের কিউতে সামনের দিকে এনে দিচ্ছি।’ রুবিও আশা করেন, টিকিটধারী বিদেশি নাগরিকরা আবেদন করার পর ছয় থেকে আট সপ্তাহের ভেতরে সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে পারেন। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি নীতির কারণে কলম্বিয়া, মেক্সিকো সিটি এবং টরন্টোর মতো স্থানগুলোতে ভিসার সাক্ষাৎকার পেতে বর্তমানে গড়ে ৯ থেকে ১৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে অনেক দেশের সমর্থকদের ভিসা অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ার শঙ্কা ছিল।
তবে সব দেশের টিকিটধারীদের ক্ষেত্রে এই নতুন অগ্রাধিকার নিয়ম কার্যকর হবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে নিরাপত্তাজনিত কারণে যে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাদের মধ্যে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ইরানও আছে। খেলোয়াড় এবং কোচিং দল ছাড় পেলেও, তাদের সমর্থকরা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৭৮টি ম্যাচ। এ ছাড়া মেক্সিকোর তিনটি ও কানাডার দুটি শহর পাবে ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব। আগামী ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। (ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক)।



