টিকে থাকার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশ
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসরে টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরে এখন অনেকটাই ব্যাকফুটে রয়েছে টাইগাররা। যে কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বাঁচা মরার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য। কিউইদের কাছে হারলে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বিদায় নেবে বাংলাদেশ। আর জিতলে সেমিফাইনালের আশা বেঁচে থাকবে। যদিও নিউজিল্যান্ডকে হারানো মোটেও সহজ হবে না বাংলাদেশের জন্য। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে বিবেচিত নিউজিল্যান্ড উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে ৬০ রানে হারিয়ে সেমির পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। আজ বাংলাদেশকে হারাতে পারলে শেষ চার নিশ্চিত হবে কিউইদের। তাই বলা যায় ম্যাচটি দু’দলের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।
আইসিসির কোনো ইভেন্টে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটার হিসেবে এবং নিজ ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের তিনি জানান, দুবাই এবং রাওয়ালপিন্ডির কন্ডিশন অনেকটাই ভিন্ন। হৃদয় বলেন,‘আমরা জানি পাকিস্তানের কন্ডিশন ভিন্ন হবে। পরের ম্যাচে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবো আমরা। আমাদের পরিকল্পনা আছে এবং আমরা তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার সচেষ্ট হবো।’ তিনি যোগ করেন,‘আসলে নিজেদের দিনে আমরাই সেরা। চেষ্টা থাকবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিনটি নিজেদের করে নেয়ার।’ ভারতের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং নতুন পেস বোলিং সেনসেশন নাহিদ রানার। কিন্তু ম্যাচটিতে তাদের অনুপস্থিতি অনেকেই অবাক করেছে। পরে জানা যায়, ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। নিজের শেষ পাঁচ ওয়ানডের চারটিতেই হাফ সেঞ্চুরি করা মাহমুদউল্লাহ আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন কী-না, এখনও নিশ্চিত নয়। ভারতের বিপক্ষে খেলা মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেতে পারেন নাহিদ রানা। ঐ ম্যাচে ৯ ওভারে ৬২ রানে ১ উইকেট নিয়েছিলেন ফিজ। ভারতের বিপক্ষে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। দলীয় ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারায় টাইগাররা। হৃদয় এবং জাকের আলির ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৫৪ রানের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ২২৮ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর জায়গায় খেলতে নামা জাকের আলি ৪টি চারে ৬৮ রনের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। সুতরাং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ খেললে একাদশ কেমন হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিউজিল্যান্ডকে পৌঁছে দেবে শেষ চারে। যে কারণে টাইগারদের বিপক্ষে ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে কিউইরা। যদিও সাম্প্রতিক ফর্ম কিংবা শক্তিমত্তা বিবেচনায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। তারপরও বাংলাদেশকে হালকাভাবে দেখছেন না নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তাই তো গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্যান্টনার বলেন,‘আমরা তাদের হালকাভাবে নিচ্ছি না। নিজেদের দিনে তারা যেকোনো দলকে হারাতে পারে। তবে আশা করি আমাদের পারবে না।’ স্যান্টনার অবশ্য আলাদা করে প্রশংসা করেন বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটের। তার কথায়,‘তারা এখন খুবই ভালো দল। স্পিনের পাশাপাশি পেসেও ভালো করছে। তাসকিন দীর্ঘদিন ধরে ভালো বল করছে। আমরা জানি নিজের দিনে মুস্তাফিজ কতটা ভালো হতে পারে। রানা খুব দ্রুত বল করে। আমরা তাদের বিপক্ষে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে অনেক ম্যাচ খেলেছি। তারাও আমাদের চেনে। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলবো।’ রাওয়ালপিন্ডির উইকেট নিয়ে স্যান্টনার বলেন,‘বাংলাদেশকে নিয়ে কিছু পরিকল্পনা তো আছেই। তবে আমাদের আগে দেখতে হবে উইকেট কেমন আচরণ করছে। করাচিতে উইকেট ফ্ল্যাট ছিল। বাংলাদেশের লাইনআপে বিধ্বংসী কয়েকজন ব্যাটার আছে। রাওয়ালপিন্ডি হাই স্কোরিং গ্রাউন্ড।’
ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৪৫ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। এর মধ্যে ১১ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। বাকি ৩৩ ম্যাচে জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ পাঁচ ওয়ানডের মধ্যে একটি মাত্র জয় রয়েছে বাংলাদেশের। নেপিয়ারে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কিউইদের বিপক্ষে শেষ দেখায় আসে সেই একমাত্র জয়টি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে ফরম্যাটে সেবারই প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল টাইগাররা। বল হাতে কিউইদের মাত্র ৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৪২ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে মাত্র ১৫.১ ওভারে জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। ২০৯ বল হাতে রেখে ওই জয় ছিল নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশের রেকর্ড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ স্মৃতি অবশ্যই বাড়তি উৎসাহ দিবে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে অধিনায়ক শান্তকে। যদিও সম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ছন্দে নেই তিনি।(মাহফুজুল ইসলাম)



